বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে শরীরের হজমশক্তি তুলনামূলক কমে যেতে পারে। তাই এ সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিরাপদ খাবার নির্বাচন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপেল, নাশপাতি, বেদানা ও কলার মতো ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এসব ফলে পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় জলবাহিত রোগের ঝুঁকিও কম থাকে।
তবে আম খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা ভালো। যাদের ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আম খেলে সমস্যা বাড়তে পারে।
বর্ষাকালে অনেকেরই অজান্তে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। ঠান্ডা কোমল পানীয়ের পরিবর্তে আদা, কালো গোলমরিচ, তুলসী ও পুদিনাপাতা দিয়ে তৈরি হারবাল চা পান করলে শরীর উষ্ণ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং গলা সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
অতিরিক্ত চা, কফি ও চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করাই ভালো।
বর্ষাকালে বাসি খাবার খাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই প্রতিবারই তাজা রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়া হজমের জন্য উপকারী।
ভাত, ওটস, ডাল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার হজম ভালো রাখতে সহায়তা করে।
বর্ষায় কাঁচা সবজিতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সালাদ বা অন্যান্য কাঁচা সবজির পরিবর্তে ভালোভাবে ধুয়ে সিদ্ধ বা রান্না করা সবজি খাওয়াই নিরাপদ। এতে ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি কমে এবং খাবার সহজে হজম হয়।
করলা, নিমপাতা, হলুদ ও মেথির মতো তেতো খাবারে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ভাজাপোড়া ও রাস্তার খাবার: পেঁয়াজু, সিঙাড়া, চপ, পাকোড়া, ফুচকা, চটপটি ইত্যাদি খোলা পরিবেশে তৈরি হওয়ায় সহজেই জীবাণু দ্বারা দূষিত হতে পারে। খেতে চাইলে বাসায় স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করাই ভালো।
শাক: বর্ষায় শাকের পাতায় নোংরা পানি, পোকামাকড় ও ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খুব ভালোভাবে পরিষ্কার ও রান্না না করে শাক খাওয়া উচিত নয়।
রাস্তার পাশে কেটে রাখা ফল ও ফলের রস: দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় থাকায় এসব ফলে সহজেই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পেটের রোগের কারণ হতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই, ছানা বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই অবশ্যই তাজা ও সঠিকভাবে সংরক্ষিত দুগ্ধজাত পণ্য খেতে হবে।
মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও বর্ষাকালে অবশ্যই টাটকা ও নিরাপদ উৎসের মাছ বেছে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন মাছ এড়িয়ে চলাই ভালো।
মাশরুমের ক্ষেত্রে বাজার বা খামারে উৎপাদিত তাজা মাশরুম কিনুন। ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করে খেলে ঝুঁকি কমে। বন্য বা অজানা উৎসের মাশরুম কখনোই খাওয়া উচিত নয়।
বর্ষা উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই এ মৌসুমের অধিকাংশ সংক্রামক ও খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই হতে পারে বর্ষাকালে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Leave a Reply