চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার নীলক্ষেতে জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির (এনএপিডি) আয়োজনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দুই কোর্সে মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনোমিক্স, রোবোটিক সার্জারি, টেলিমেডিসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো খাতে বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রযুক্তির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক কর্মজীবনে নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি, স্বাস্থ্যসেবার মডেল, ডিজিটাল সমাধান কিংবা ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবন আনতে পারলে তার সুফল একটি হাসপাতালের গণ্ডি পেরিয়ে কোটি মানুষের জীবনে পৌঁছাতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। রোবোটিক প্রযুক্তি অস্ত্রোপচারকে আরও নিখুঁত করছে। অন্যদিকে, জিনোমিক্সের অগ্রগতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত করছে।
চিকিৎসকদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, গবেষণা করা এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চিকিৎসার আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি কাজের সফলতা ও ব্যর্থতা—দুটিই বিশ্লেষণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা, উদ্ভাবন ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমন জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে মানুষের কল্যাণে।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটে এ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩০ শয্যার হাসপাতালের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁদের শহরমুখী হতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনএপিডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক সায়মা আফরোজ। পরে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র এবং পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি।
এনএপিডির মহাপরিচালক মো. খায়রুল কবির মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে একাডেমির অনুষদ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply