1. rkparvez07@gmail.com : aparajeyokantho : rkparvez07 rkparvez07
চোখে নেই আলো, হাল ছাড়েননি তারা ; হলেন জনপ্রিয় সেরা শিক্ষক - https://aparajeyokantho.news
October 26, 2026, 7:10 pm
নোটিশঃ
যে কোন বিভাগে প্রতি জেলা, থানা/উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ‘aparajeyokantho.com ’ জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ ২০২৩ চলছে। বিগত ১ বছর ধরে ‘cnm24.com’ অনলাইন সংস্করণ পাঠক সমাজে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাঠকের সংখ্যায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছে তরুণ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক সংবাদকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ‘aparajeyokantho.com.‘ পত্রিকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এ ধাপ
শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে জমকালো আয়োজনে নবীনবরণ ; উপস্থিত ছিলেন সেরা ব্যক্তিবর্গ  লক্ষ্মীপুরে পুলিশ সদস্যদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান ; বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫-এর আওতায় লক্ষ্মীপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, সম্মানীর টাকা ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এসব সম্মাননা তুলে দেন। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক চোখে নেই আলো, হাল ছাড়েননি তারা ; হলেন জনপ্রিয় সেরা শিক্ষক খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৮৬১ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ছেন স্পেনের ভবিষ্যৎ রানি প্রিন্সেস লিওনর সবুজ ভবিষ্যৎ গড়তে খুলনা পলিটেকনিকে বৃক্ষরোপণ ; আয়োজনে বাংলাদেশ ইয়ূথ ক্যাডেট ফোরাম (বিওয়াইসিএফ) খুলনায় বিওয়াইসিএফের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি লক্ষ্মীপুরে পুনাক বিপণী বিতানে নতুন স্টল ; উদ্বোধন করলেন পুনাক সভানেত্রী শারমিন আক্তার

চোখে নেই আলো, হাল ছাড়েননি তারা ; হলেন জনপ্রিয় সেরা শিক্ষক

  • Update Time : Tuesday, October 6, 2026

 

প্রিয়জন-শিক্ষার্থীদের মুখ তাঁরা দেখতে পান না। বইয়ের অক্ষরও চোখে পড়ে না। অথচ জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন অন্যের জীবনে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও থেমে থাকেননি লক্ষ্মীপুরের তিন শিক্ষক- আজাদ পাটোয়ারী, আবদুল মুহাইমিন ও বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া। নিজেদের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাঁরা গড়ে তুলছেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।

তাঁদের চোখে প্রতিফলিত হয় না পৃথিবীর কোনো আলো, কোনো রং। কিন্তু নিজেদের জীবনের অন্ধকার জয় করে অন্যের ভবিষ্যৎ আলোকিত করাই যেন তাঁদের ব্রত।

কণ্ঠ শুনেই শিক্ষার্থী চেনেন,পায়ের আওয়াজ শুনে প্রিয়জনদের সনাক্ত করতে পারেন :

লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন আবদুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। জীবনের প্রথম ১০ বছর স্বাভাবিকভাবেই কেটেছে তাঁর। পরে টাইফয়েডে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর বলের আঘাতে হারান অন্য চোখের দৃষ্টিও। ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতায় আসেন তিনি।

দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও শ্রেণিকক্ষে তাঁর পাঠদান থেমে নেই। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ শুনেই চিনে নেন তিনি।এ ছাড়া স্পষ্ট শব্দ এলে প্রিয়জনদের পায়ের শব্দে তাদের সনাক্ত করতে পারেন। ইংরেজি বিষয়ে ইতোমধ্যে ১০টি বই লিখেছেন আজাদ পাটোয়ারী। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও শিক্ষকদের প্রশ্ন তৈরির জন্য তৈরি করেছেন ‘দি ব্রেইন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম।

তাঁর প্রত্যাশা, সরকার যেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই সময়মতো সরবরাহ করে। পাশাপাশি ব্রেইল প্রিন্টার, ব্রেইল ডিসপ্লে ও স্ক্রিন রিডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ সরবরাহেও সহযোগিতা করা হয়।

ব্রেইল শেখানোর স্বপ্ন,আছে বিশেষ গুন:

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালুহাটি রোডে আত্মসাহসী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রেইল হাফিজিয়া ও কারিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন আবদুল মুহাইমিন। পার্বতীনগর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের এই শিক্ষক দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় আসেন তিনি। কণ্ঠ শুনেই শিক্ষার্থীদের চিনে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে তাঁর।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ব্রেইল শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর বিশ্বাস, দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা কখনোই শিক্ষার পথে স্থায়ী বাধা হতে পারে না।

দৃষ্টিহীন হয়েও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন:

১৯৯৬ সাল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। কুমিল্লার সমিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, এটি আনন্দ ও তৃপ্তির বিষয়। বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক যে আনন্দ ও তৃপ্তি পান, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

নিজের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘প্রতিবন্ধিতা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো সমাজের সঙ্গে নিজেকে সমন্বয় করে নেওয়া।’

তিন শিক্ষকের জীবন যেন একই বার্তা দেয়- চোখের আলো নিভে গেলেও মানুষের ভেতরের আলো নিভে যায় না। ইচ্ছাশক্তি, শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে দৃষ্টিশক্তির প্রতিবন্ধকতা জয় করে অন্যের পথ আলোকিত করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 aparajeyokantho.com
Design & Developed by BD IT HOST