অপরাজেয় কণ্ঠ ডেস্ক : দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধির খবরও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময়ে খাদ্যাভ্যাসে অসতর্কতাই এ ধরনের রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই সুস্থ থাকতে এ সময় খাবার নির্বাচন ও খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
ঢাকার একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল ও কিউর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদ সোমা আক্তার জানিয়েছেন, গরমকালে কিছু খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ভুনা মাছ বা মাংস হজমে বেশি সময় নেয়, ফলে শরীরে গরমের অনুভূতি বাড়ে।
তিনি বলেন, ডিম শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎস হলেও গরমে অনেকের ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। যাদের কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তারা চাইলে ডিমের পরিবর্তে মাছ বা মুরগির মাংস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন।
গরমে আইসক্রিম বা ঠাণ্ডা কোমল পানীয় খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। একইভাবে ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেলেভাজা ও ডুবো তেলে রান্না করা খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবারে চর্বি ও শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় হজমে সময় লাগে এবং শরীরে প্রদাহ ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।
চা ও কফিতেও থাকা ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেট করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া মেয়োনেজ, বিভিন্ন শেকসহ দুগ্ধজাত খাবার গরমে দ্রুত নষ্ট হয়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ঠিকমতো রান্না না হওয়া স্টেকও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরু, খাসি কিংবা হাঁসের মাংস এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত পোলাও, বিরিয়ানি বা তেহারির মতো খাবার গরমে যতটা সম্ভব কম খাওয়া ভালো। একইসঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত প্রসেসড খাবার শরীরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে গরমে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শরীরের জন্য উপকারী বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। কম মসলাযুক্ত রান্না, পাতলা ঝোলের সবজি, শাক-সবজি এবং ক্লিয়ার ভেজিটেবল স্যুপ এ সময়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।
এছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে শরীর থেকে ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। তাই একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন।
ডাবের পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্যকর হলেও সবার পক্ষে নিয়মিত ডাব খাওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে স্যালাইন পানি বিকল্প হতে পারে। লেবুর শরবত, কাঁচা আমের শরবত ও টক দইও গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সহায়ক।
ফলমূলের মধ্যে তরমুজ, শশা, জাম ও স্ট্রবেরি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি গরমের উপযোগী ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর ও পুদিনা দিয়ে তৈরি ডিটক্স ওয়াটারও গরমে উপকারী হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সব খাবার সবার শরীরের জন্য সমান উপযোগী নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু খাবার সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত।
Leave a Reply